শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বিচার ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষা
- পোষ্ট টাইম : 2026-04-09 11:20:16
- আপডেট টাইম :
- 3179 বার পঠিত
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে সারা বিশ্ব দেখেছিল এক অকুতোভয় তরুণকে। দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন পুলিশের বন্দুকের নলের সামনে। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সেই শিক্ষার্থী, শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রায় আজ ঘোষণা করা হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই ঐতিহাসিক মামলার রায় প্রদানের দিন ধার্য করেছেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। এই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয় এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলন একদফায় রূপ নেয়।
পরবর্তীতে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই হত্যাকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বিচারের উদ্যোগ নেয়। এ ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) ড. মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।
যাদের বিরুদ্ধে রায় আসছে: মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে মাত্র ৬ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন। তারা হলেন: ১. শরিফুল ইসলাম (সাবেক প্রক্টর, বেরোবি) ২. রাফিউল হাসান রাসেল (সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার) ৩. মো. আনোয়ার পারভেজ (সাবেক স্টাফ) ৪. আমির হোসেন (সাবেক এএসআই, পুলিশ) ৫. সুজন চন্দ্র রায় (সাবেক কনস্টেবল, পুলিশ) ৬. ইমরান চৌধুরী আকাশ (বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক)
বাকি ২৪ জন আসামি, যার মধ্যে সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ, সাবেক পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রয়েছেন, তারা বর্তমানে পলাতক। তাদের অনুপস্থিতিতেই (In Absentia) বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
গত ২৫ জানুয়ারি এ মামলার শুনানি শেষে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানায়। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "তদন্তে আমরা সন্দেহাতীত ও অকাট্য প্রমাণ পেয়েছি। আবু সাঈদকে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, যা ভিডিও ফুটেজ এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। আমরা বিশ্বাস করি, আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এবং দেশবাসী একটি ঐতিহাসিক রায় দেখতে পাবে।"
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, প্রসিকিউশন সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা আসামিদের খালাস প্রত্যাশা করছেন।
১৩ জানুয়ারি ২০২৫: আবু সাঈদের পরিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করে।
৬ আগস্ট ২০২৫: ট্রাইব্যুনাল ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করে।
সাক্ষ্যগ্রহণ: বিচার চলাকালে আবু সাঈদের বাবাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
৯ এপ্রিল ২০২৬: পাঁচ মাস ২০ দিনের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণার দিন।
রায়ের বিষয়ে আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী গণমাধ্যমকে বলেন, "আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। সারা পৃথিবী দেখেছে আমার ভাইকে কীভাবে পাখির মতো গুলি করে মারা হয়েছে। যারা এই আদেশের পেছনে ছিল এবং যারা সরাসরি গুলি চালিয়েছে, তাদের সবার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত যেন আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।"
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সহস্রাধিক শহীদের মধ্যে আবু সাঈদ ছিলেন সাহসের প্রতীক। তার হত্যাকাণ্ডের রায় কেবল একটি বিচার নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের আদর্শ ও ন্যায়বিচারের পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর এটি হবে জুলাই হত্যাকাণ্ডের চতুর্থ রায়। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভিন্ন মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছিল।
আজকের এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণসহ রংপুর ও সারাদেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি মানুষ এখন অপেক্ষায় আছে—শহীদ আবু সাঈদের রক্ত কি ন্যায়বিচার পাবে?
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |