শ্রদ্ধা ও গৌরবে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত: বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার শপথ
- পোষ্ট টাইম : 2026-03-26 00:23:57
- আপডেট টাইম :
- 8600 বার পঠিত
যথাযোগ্য মর্যাদা, গৌরব ও পরম শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে পালিত হয়েছে ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতি সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ভূখণ্ড অর্জনের শপথ নিয়েছিল। সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ৫৬ বছর পূর্ণ হলো আজ। বীর শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা আর একটি সুখী-সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে মুখরিত ছিল পুরো দেশ।
দিবসের প্রথম প্রহরেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে তারা স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে এবং সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
এরপরই স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সাধারণ মানুষের জন্য। সূর্যোদয়ের আগে থেকেই হাজার হাজার মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন আর লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে সমবেত হতে থাকেন। রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে সাভারে।
দিবসটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। ভোর থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর আলোকসজ্জার চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা ও সেবামূলক কর্মসূচিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সশস্ত্র বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। দেশের আকাশসীমায় বিমান বাহিনীর মনোমুগ্ধকর ‘ফ্লাই পাস্ট’ উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে।
বিকেলে বঙ্গভবনের সবুজ চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের গুণীজন অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং একটি বিশেষ কেক কাটেন।
দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নিজস্ব কর্মসূচি ও র্যালির মাধ্যমে দিবসটি পালন করেছে। ক্ষমতাসীন দলসহ সকল রাজনৈতিক সংগঠনই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আলোচনার সভার আয়োজন করে। বিএনপির পক্ষ থেকে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সাভারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সেখানে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশালসহ প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান, আলোচনা সভা এবং কুচকাওয়াজের আয়োজন করে। সারা দেশের মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতাল, কারাগার ও এতিমখানাগুলোতে পরিবেশন করা হয়েছে উন্নত মানের খাবার।
স্বাধীনতার ৫৬ বছর উপলক্ষে আজকের দিনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল জাতীয় ঐক্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। টেলিভিশন ও রেডিওগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে এবং সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। দিনের শেষে সন্ধ্যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে দেশপ্রেমের গান ও নাটকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তুলে ধরা হয়েছে। মহান এই দিনে দেশের আপামর জনসাধারণের কণ্ঠে ছিল একটাই সুর— লাখো শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা।
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |