মৌসুমের আগেই বাজারে আম-লিচুর ছড়াছড়ি, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা
- পোষ্ট টাইম : 2026-05-14 19:34:22
- 4451 বার পঠিত
যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে এখনও পুরো মৌসুম শুরু না হলেও দেদার বিক্রি হচ্ছে নানা জাতের আম ও লিচু। বাহারি রং আর আগাম ফলের আকর্ষণে ক্রেতারা চড়া দামে কিনছেন এসব ফল। তবে কৃষি বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বাজারে থাকা অধিকাংশ ফলই অপরিপক্ব অবস্থায় সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং কেমিক্যাল ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
যশোর শহরে ইতোমধ্যে গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও গোলাপখাস জাতের আম বিক্রি হচ্ছে। একইসঙ্গে বাজারে দেখা মিলছে আগাম লিচুরও। বিক্রেতাদের দাবি, এসব ফল রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও দিনাজপুর অঞ্চল থেকে এসেছে। তবে কৃষি সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এখনো অধিকাংশ উন্নত জাতের আম ও লিচুর স্বাভাবিক পরিপক্বতার সময় হয়নি।
সরকার নির্ধারিত ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী বিভিন্ন জেলার আম সংগ্রহের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। সেই সময়ের আগেই বাজারে উন্নত জাতের আম আসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অধিক মুনাফার আশায় একশ্রেণির ব্যবসায়ী অপরিপক্ব আম গাছ থেকে নামিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করে দ্রুত পাকিয়ে বাজারে ছাড়ছেন।
বর্তমানে বাজারে আগাম আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। অন্যদিকে লিচুর প্রতি ছড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। দাম বেশি হলেও মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে অনেক ক্রেতার।
সাতক্ষীরার একাধিক আম ব্যবসায়ী জানান, চলতি বছর আমের ফলন ভালো হলেও অপরিপক্ব ফল বাজারে আসায় পুরো অঞ্চলের আমের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত লাভের আশায় কাঁচা ফল সংগ্রহ করে কার্বাইড, ইথোফেনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করছেন।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো বিপুল পরিমাণ আম জব্দ করেছে প্রশাসন। সাতক্ষীরা ও যশোর অঞ্চলের কয়েকটি বাজারে নির্ধারিত সময়ের আগেই উন্নত জাতের আম বিক্রি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি ফলের স্বাভাবিক পরিপক্বতার একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। সময়ের আগে সংগ্রহ করা হলে ফলের ভেতরে শাঁস পূর্ণতা পায় না। বাইরে রং ধরলেও স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ফল খেলে বমি, ডায়রিয়া, পেটের সমস্যা, অ্যালার্জির মতো তাৎক্ষণিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির ক্ষতির পাশাপাশি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে অপরিপক্ব লিচু শিশুদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, অস্বাভাবিক চকচকে, অতিরিক্ত উজ্জ্বল বা গন্ধহীন ফল কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। ফল খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানিতে কিছু সময় ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।