ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- পোষ্ট টাইম : 2026-03-14 17:38:04
- আপডেট টাইম : 2026-03-14 17:52:24
- 11679 বার পঠিত
ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রকল্প উদ্বোধন
প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৯০৮ মসজিদের প্রায় ১৪ হাজার ৭২৪ জন পাচ্ছেন আর্থিক সহায়তা
ঢাকা: দেশের মসজিদে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক সহায়তা দিতে মাসিক সম্মানী প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রথম ধাপে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের প্রায় ১৪ হাজার ৭২৪ জন ধর্মীয় কর্মী সরাসরি এই সুবিধা পাচ্ছেন। রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির দাবি ছিল। দেশের অনেক মসজিদে কর্মরত ধর্মীয় ব্যক্তিরা খুব সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনযাপন করেন। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করতেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের জন্য মোট ১০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একজন ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, একজন মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং মসজিদের খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে এই অর্থ প্রদান করা হবে, যাতে অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় নেতারা সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।
শুধু মসজিদ নয়, দেশের অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট পুরোহিত, যাজক বা অধ্যক্ষ এবং সহকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। সরকারের এই পদক্ষেপকে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথম ধাপে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাসহ মোট প্রায় ১৭,৭৮৪ জন মাসিক সম্মানী পাবেন।
-
মসজিদ: ৪,৯০৮টি
-
প্রতি মসজিদে: ৩ জন (ইমাম ১ + মুয়াজ্জিন ১ + খাদেম ১)
-
মোট: ৪,৯০৮ × ৩ = ১৪,৭২৪ জন
-
মন্দির: ৯৯০টি
-
প্রতি মন্দিরে: ২ জন (পুরোহিত + সহকারী)
-
মোট: ১,৯৮০ জন
-
বিহার: ১৪৪টি
-
প্রতি বিহারে: ২ জন
-
মোট: ২৮৮ জন
-
গির্জা: ৩৯৬টি
-
প্রতি গির্জায়: ২ জন
-
মোট: ৭৯২ জন
সব মিলিয়ে মোট: (১৪,৭২৪ + ১,৯৮০ + ২৮৮ + ৭৯২) = ১৭,৭৮৪ জন
এছাড়া মাসিক সম্মানীর পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মুসলিম ধর্মীয় নেতারা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে অতিরিক্ত ভাতা পাবেন। একইভাবে দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা এবং বড়দিন উপলক্ষে অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জন্যও উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে এই কর্মসূচি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে দেশের সব মসজিদ এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়কে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দেশের লাখো ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সরাসরি এই সুবিধা পাবেন।
ধর্মীয় নেতারা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, অনেক ইমাম ও মুয়াজ্জিন দীর্ঘদিন ধরে সীমিত আয়ের মধ্যে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকারের এই সহায়তা তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং তারা আরও মনোযোগ দিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রচারে কাজ করতে পারবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের সামাজিক ও নৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা প্রদান সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকার আশা করছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী হবে এবং ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা ও জীবনমান উন্নত হবে। পাশাপাশি এটি সমাজে নৈতিকতা, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |