দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: প্রাণহানি বেড়ে ২৬, শোকাতুর পদ্মা পাড়
- পোষ্ট টাইম : 2026-03-26 23:51:46
- আপডেট টাইম :
- 8251 বার পঠিত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে আরও মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়ে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা অভিমুখী 'সৌহার্দ্য পরিবহন'-এর যাত্রীবাহী একটি বাস ফেরিতে ওঠার জন্য ৩ নম্বর পন্টুনে অপেক্ষা করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি ছোট ইউটিলিটি ফেরি (হাসনা হেনা) পন্টুনে সজোরে ধাক্কা দিলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায় এবং মুহূর্তেই প্রায় ৬০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ও ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল অভিযানে অংশ নেয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ 'হামজা'-র সাহায্যে নিমজ্জিত বাসটি টেনে তোলা হয়।
নিহত: ২৬ জন (১১ জন নারী, ৭ জন পুরুষ এবং ৮ জন শিশু)।
উদ্ধার: ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তদন্ত: ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
নিহতদের তালিকা ও ঠিকানা
নিহত ২৬ জনের মধ্যে ২৪ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁদের অধিকাংশের বাড়ি রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া জেলায়।
রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা:
রেহেনা আক্তার (৬১): স্বামী- মৃত ইসমাইল হোসেন খান, ভবনপুর, রাজবাড়ী পৌরসভা।
জহুরা অন্তি (২৭): পিতা- মৃত আব্দুল আলিম, সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী পৌরসভা।
কাজী সাইফ (৩০): পিতা- কাজী মুকুল, সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী।
আহনাফ তাহমিদ খান (২৫): পিতা- ইসমাইল হোসেন খান, ভবনপুর, রাজবাড়ী।
সোহা আক্তার (১১): পিতা- সোহেল মোল্লা, রাজবাড়ী পৌরসভা।
মর্জিনা আক্তার (৩২): স্বামী- রেজাউল করিম, ছোটভাকলা, গোয়ালন্দ।
সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২): পিতা- রেজাউল করিম, ছোটভাকলা, গোয়ালন্দ।
ফাইজ শাহানূর (১১): পিতা- বিল্লাল হোসেন, কালুখালী।
আব্দুর রহমান (৬): পিতা- আব্দুল আজিজ, কালুখালী।
নাজমিরা জেসমিন (৩০): স্বামী- আব্দুল আজিজ, কালুখালী।
তাজবিদ (৭): পিতা- কেবিএম মুসাব্বির, সজ্জনকান্দা।
আরমান খান (৩১): (বাসচালক), বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী।
লিমা আক্তার (২৬): পিতা- সোবাহান মন্ডল, মিজানপুর, রাজবাড়ী।
জোছনা (৩৫): স্বামী- মান্নান মন্ডল, মিজানপুর, রাজবাড়ী।
সাবিত হাসান (৮): পিতা- শরিফুল ইসলাম, দাদশী, রাজবাড়ী।
উজ্জ্বল, আশরাফুল ও জাহাঙ্গীর: কালুখালী, রাজবাড়ী।
কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা:
17. মর্জিনা খাতুন (৫৬): স্বামী- আবু বক্কর সিদ্দিক, মজমপুর, কুষ্টিয়া পৌরসভা।
18. রাজীব বিশ্বাস (২৮): পিতা- হিমাংশু বিশ্বাস, খোকসা, কুষ্টিয়া।
19. ইস্রাফিল (৩): পিতা- দেলোয়ার হোসেন, খোকসা, কুষ্টিয়া।
20. আয়েশা সিদ্দিকা (১৩): পিতা- গিয়াসউদ্দিন রিপন, খোকসা।
অন্যান্য জেলার বাসিন্দা:
21. শিশু আরমান (৭ মাস): পিতা- নুরুজ্জামান, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ।
22. আয়েশা আক্তার সুমা (৩০): স্বামী- নুরুজ্জামান, আশুলিয়া, ঢাকা।
23. মুক্তা খানম (৩৮): স্বামী- মৃত জাহাঙ্গীর আলম, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ।
24. নাসিমা (৪০): স্বামী- মৃত নূর ইসলাম, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
নিহতদের অধিকাংশের বাড়ি রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া জেলায়। বাসচালক আরমান খানও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইতিমধ্যে ২৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আজ স্বাধীনতা দিবসের ছুটির মধ্যেও দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ। নিখোঁজদের খোঁজে নদীর পাড়ে স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান রাতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং হতাহতদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |