দেশে হামের প্রাদুর্ভাব: গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ
- পোষ্ট টাইম : 2026-04-07 10:39:08
- আপডেট টাইম :
- 4155 বার পঠিত
দেশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হামের (Measles) প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম-আনুষঙ্গিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে চলতি মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির সংখ্যা একটি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চিকিৎসকদের মতে, মৃত শিশুদের অধিকাংশই পুষ্টিহীনতা এবং শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় ভুগছিল। দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো এবং রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ও মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন শত শত শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বহির্বিভাগে ভিড় করছে। এর মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ভর্তি করতে হচ্ছে। বিশেষ করে হামের পর নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দেওয়ায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে নার্স ও চিকিৎসকরাও হিমশিম খাচ্ছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) থেকে অনেক শিশু বাদ পড়ে যাওয়ায় দেশে নতুন করে হামের সংক্রমণ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক দুর্গম এলাকায় টিকাদান ব্যাহত হয়েছিল, যার প্রভাব এখন দৃশ্যমান হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক একজন পরিচালক বলেন, "হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একটি শিশু আক্রান্ত হলে তার আশপাশের অন্য শিশুদের মধ্যেও এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যদি শিশুদের সময়মতো এমআর (MR) টিকা নিশ্চিত করা না যায়, তবে এই পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।"
চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেছেন, শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি এবং লালচে র্যাশ বা দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। হাম আক্রান্ত শিশুকে আলাদা ঘরে রাখা এবং প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে টিকার কোনো বিকল্প নেই। ৯ মাস পূর্ণ হলে হামের প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস পূর্ণ হলে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে তারা কাজ শুরু করেছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত ভিটামিন-এ ক্যাপসুল এবং জরুরি ওষুধ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, "আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম, সেখানে দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মীদের পাঠানো হচ্ছে। আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে।"
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাইকিং এবং প্রচারপত্র বিলির মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনো টিকা নেয়নি, তাদের দ্রুত তালিকার আওতায় আনার কাজ চলছে। শিশুদের জনসমাগমপূর্ণ স্থানে না নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
দেশের এই বর্তমান পরিস্থিতিতে হামের প্রকোপ কমাতে সরকার ও নাগরিক সমাজ—উভয়কেই সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |