১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু
- পোষ্ট টাইম : 2026-04-05 06:59:54
- আপডেট টাইম :
- 5022 বার পঠিত
দেশে হাম ও রুবেলার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগে আজ রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের ১৮টি জেলার নির্দিষ্ট ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম একযোগে পরিচালিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ কর্মসূচি চলবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। এই কর্মসূচির আওতায় মূলত ৬ মাস থেকে শুরু করে ৫৯ মাস (৫ বছরের কম) বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলার (এমআর) এক ডোজ বিশেষ টিকা দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে এটি একটি অতিরিক্ত ডোজ হিসেবে গণ্য হবে।
গত কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে উপকূলীয় এবং দুর্গম এলাকাগুলোতে হামের প্রকোপ লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক শিশু হামে আক্রান্ত হলে সেখানে প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর জন্য দ্রুত 'ক্যাচ-আপ' বা বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ১৮টি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকার এই জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রাথমিকভাবে যে ১৮টি জেলাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ এবং উত্তরের কয়েকটি জেলা। এই জেলাগুলোর মোট ৩০টি উপজেলাকে এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে নিয়মিত টিকাদানের হার কিছুটা কম ছিল, সেসব এলাকাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
টিকা কর্মসূচির আওতাভুক্ত জেলা ও উপজেলার তালিকা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যে জেলা ও উপজেলাগুলোতে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিম্নরূপ:
| ক্রমিক | জেলা | উপজেলার নাম |
| ১ | চট্টগ্রাম | সীতাকুণ্ড, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সন্দ্বীপ ও রাঙ্গুনিয়া |
| ২ | কক্সবাজার | উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া ও মহেশখালী |
| ৩ | রাঙামাটি | লংগদু, বাঘাইছড়ি ও নানিয়ারচর |
| ৪ | খাগড়াছড়ি | পানছড়ি ও দীঘিনালা |
| ৫ | বান্দরবান | নাইক্ষ্যংছড়ি ও রুমা |
| ৬ | সিলেট | গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর |
| ৭ | মৌলভীবাজার | শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া |
| ৮ | সুনামগঞ্জ | দিরাই ও তাহিরপুর |
| ৯ | হবিগঞ্জ | চুনারুঘাট ও বাহুবল |
| ১০ | কুড়িগ্রাম | নাগেশ্বরী ও রৌমারী |
| ১১ | নেত্রকোনা | দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা |
| ১২ | শেরপুর | ঝিনাইগাতী |
| ১৩ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | নাসিরনগর |
| ১৪ | ভোলা | মনপুরা |
| ১৫ | পটুয়াখালী | রাঙ্গাবালী |
| ১৬ | নীলফামারী | জলঢাকা |
| ১৭ | গাইবান্ধা | ফুলছড়ি |
| ১৮ | জামালপুর | দেওয়ানগঞ্জ |
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না দিলে শিশুর নিউমোনিয়া, কান পাকা, এমনকি অন্ধত্বের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।
টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে অভিভাবকদের প্রতি কয়েকটি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে: ১. শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ৫৯ মাসের মধ্যে হলে অবশ্যই নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। ২. আগে নিয়মিত হামের টিকা দেওয়া থাকলেও এই বিশেষ ডোজটি দিতে কোনো বাধা নেই। ৩. টিকা দেওয়ার সময় শিশুর টিকাদান কার্ড (যদি থাকে) সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। ৪. টিকা দেওয়ার পর কেন্দ্রে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কি না তা দেখার জন্য।
টিকাদান কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, "হাম নির্মূলে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। তবে বিশ্বব্যাপী টিকাদানে কিছুটা শিথিলতা এবং মানুষের মাঝে সচেতনতার অভাবে মাঝে মাঝে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ১৮ জেলার এই ৩০টি উপজেলায় আমরা শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে চাই যাতে সংক্রমণ আর ছড়িয়ে পড়তে না পারে।"
তিনি আরও জানান, কেবল টিকাদান নয়, সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে স্থানীয় মসজিদ, মন্দির এবং ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে মাইকিং ও প্রচার চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এবং চরাঞ্চলীয় এলাকায় ভ্রাম্যমাণ টিম কাজ করছে যাতে কোনো শিশু টিকার আওতার বাইরে না থাকে।
শিশুর সুরক্ষায় টিকার কোনো বিকল্প নেই। আপনার এলাকায় যদি এই বিশেষ কর্মসূচি চলে থাকে, তবে দেরি না করে আজই শিশুকে কেন্দ্রে নিয়ে যান। গুজব বা আতঙ্কে কান না দিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত এই টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করুন।
দেশের জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত খবরের জন্য চোখ রাখুন 'বিডি ক্রাইম ওয়াচ' (bdcrimewatch.com) পোর্টালে।
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |