জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশেষ উদ্যোগ: ১ লাখ টন ডিজেল ও ২ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন
- পোষ্ট টাইম : 2026-04-05 07:22:22
- আপডেট টাইম :
- 4995 বার পঠিত
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৪তম বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
একই সাথে স্বস্তির খবর হলো, বিকল্প উৎস থেকে আমদানিকৃত ডিজেলবাহী দুটি বড় জাহাজ ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে খালাস শুরু করেছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'অ্যারামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড' থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের মজুত বাড়াতে কাজাখস্তানের 'কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি' থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন লো-সালফার ডিজেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (DPM) কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলেও সরকার বিকল্প উৎস থেকে তুলনামূলক কম দামে এই জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
সারাদেশে ডিজেলের চাহিদা মেটাতে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত মোট ৬১ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।
সিঙ্গাপুর থেকে: গত শুক্রবার ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে 'এমটি ইউয়ান জিং হে' জাহাজটি বন্দরের ডলফিন জেটিতে নোঙর করেছে।
মালয়েশিয়া থেকে: আজ রোববার সকালে ৩৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে 'শান গাং ফা জিয়ান' নামক আরও একটি জাহাজ কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেল ও গ্যাসিবাহী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং ও খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরের 'হরমুজ প্রণালী' দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। বাংলাদেশ তার চাহিদার বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করায় সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এই ঝুঁকি এড়াতে সরকার এখন কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের মতো বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি নিশ্চিত করছে।
জ্বালানি সচিব জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে দেশে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে প্রায় ১.৫ লাখ টন মজুত রয়েছে এবং নতুন করে আসা চালানগুলো যুক্ত হলে সেচ মৌসুম ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি হবে না। তবে অপচয় রোধে সরকার ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন অফিস সময়সূচি নির্ধারণসহ বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |