আপত্তিকর ভিডিওর জেরে দলীয় পদ হা'রালেন জামায়াতের সেই এমপি নজরুল ইসলাম।
- পোষ্ট টাইম : 2026-07-22 22:21:43
- 1641 বার পঠিত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ভিডিওকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে সাংগঠনিক তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে 'নৈতিক স্খলন' প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে জামায়াতের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েক দিন আগে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রথমদিকে দলের কিছু নেতা-কর্মী ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই ফেসবুকে জানান, ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে।
তবে এমপির এই ব্যাখ্যা দলকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। সাংগঠনিক তদন্ত শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দলটির ভাষ্য, একজন জনপ্রতিনিধি ও দলের নেতার আচরণ সংগঠনের নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কারের খবর প্রকাশের পর সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কোথাও তাঁর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে, আবার কোথাও বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মিষ্টি বিতরণের খবরও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা দল থেকে বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পায়নি। চিঠি পাওয়ার পর বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংবিধান, প্রযোজ্য আইন এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
