রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া ওবায়দুল্লাহ ওরফে বাদলের লাশের ছয়টি খণ্ড ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহের খণ্ডগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পৃথকভাবে মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অংশগুলো একই ব্যক্তির কি না, তা নিশ্চিত হতে সেগুলো সংরক্ষণ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের পাশাপাশি আলামত সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহের অংশগুলো শনাক্ত করেন। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর পুলিশ মরদেহ হস্তান্তর করে। স্বজনদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ওবায়দুল্লাহ ওরফে বাদল নিখোঁজ হন। পরিবার প্রথমে আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করে। পরবর্তীতে কোনো খোঁজ না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর মধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। সন্দেহের ভিত্তিতে পরিবারকে খবর দেওয়া হলে তারা গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের শনাক্তে একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় শাহিন নামের এক রুমমেটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশের বিভিন্ন টুকরা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।