‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’: জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- পোষ্ট টাইম : 2026-04-28 23:28:20
- 9225 বার পঠিত
অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দিবসটির শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণে আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সবার জন্য সমান হতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো নাগরিক যেন বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (লিগ্যাল এইড) আজ প্রান্তিক মানুষের শেষ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।”
শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, আইন সচিব এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচি সূচনা করেন। এরপর তিনি লিগ্যাল এইড মেলা ও বিভিন্ন তথ্য বুথ পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এবারের প্রতিপাদ্য ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মামলা-জট কমাতে এবং দ্রুত বিরোধ মেটাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর (ADR) পদ্ধতিকে আরও জনপ্রিয় করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে এখন শুধু আদালতেই নয়, বরং আলোচনার টেবিলেই অনেক জটিল সমস্যার সমাধান হচ্ছে। এতে জনগণের সময় ও অর্থ দুই-ই সাশ্রয় হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পক্ষ থেকে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করা হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত এক বছরে সরকারি খরচে কয়েক লক্ষ মানুষকে আইনি পরামর্শ ও মামলা পরিচালনার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ক্ষেত্রে এই সেবা এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। প্রধানমন্ত্রী এই সেবার পরিধি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আইনি সহায়তাকে মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন ১৬৪৩০ হেল্পলাইন নম্বরে কল করে যে কেউ তাৎক্ষণিক আইনি পরামর্শ পাচ্ছেন। এছাড়াও ‘লিগ্যাল এইড’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজতর করা হয়েছে। তিনি বিচার বিভাগকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করার চলমান প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
আইনজীবী ও বিচারকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আইন পেশা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান সেবা। আপনারা যখন একজন দরিদ্র মানুষের পক্ষে বিনামূল্যে দাঁড়ান, তখন রাষ্ট্রের প্রতি আপনাদের দায়বদ্ধতা প্রতিফলিত হয়।" তিনি দেশের প্রতিটি জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনকে সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানান।
রাজধানীর পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলাতেই আজ র্যালি, আলোচনা সভা ও লিগ্যাল এইড মেলার আয়োজন করা হয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড কমিটিগুলোর উদ্যোগে স্থানীয় বিচার বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনেক জেলায় আজ কারাবন্দিদের জন্য বিশেষ আইনি পরামর্শ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শেষে বলেন, "ন্যায়বিচার সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত। আমরা চাই না কোনো মানুষ তার অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একা বোধ করুক। সরকার সবসময় আপনাদের পাশে আছে।" তিনি দেশবাসীকে ছোটখাটো বিরোধ নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বা লিগ্যাল এইড অফিসের সহযোগিতায় মিটিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে হাইকোর্ট মাজার সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এতে বিচারক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।