ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জয়ন্তী উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা
- পোষ্ট টাইম : 2026-05-23 22:46:09
- 2637 বার পঠিত
দীর্ঘ দুই দশক পর ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শুরু হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন। আজ শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠে (ঐতিহাসিক দরিরামপুর হাইস্কুল মাঠ) তিন দিনব্যাপী এই বিশেষ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ সাল পর্যন্ত আগামী একটি বছরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সাথে তিনি সমাজ থেকে অন্যায়, বৈষম্য ও মূল্যবোধের অবক্ষয় দূর করে একটি মানবিক ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে কবি নজরুলের বিদ্রোহী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান।
২০০৬ সালের পর বিগত ২০ বছরে ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে বড় কোনো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নজরুল জয়ন্তী উদযাপিত হয়নি। ফলে দীর্ঘ ২০ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে এবং সংস্কৃতি অঙ্গনে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই ত্রিশাল ও আশেপাশের জেলা থেকে হাজারো মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে সমবেত হতে শুরু করেন।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম কেবল একজন কবি নন; তিনি ছিলেন শোষিত, বঞ্চিত ও মেহনতি মানুষের মুক্তির কণ্ঠস্বর। বাংলা সাহিত্যে তিনি এনেছিলেন এক নতুন ভোরের উদয় এবং রুচির বিপ্লব। তিনি ছিলেন নারী অধিকার, সাম্য এবং অসাম্প্রদায়িক বিশ্ব মানবতার এক অনন্য ফেরিওয়ালা।”
দেশে আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ নজরুলীয় দর্শনের চর্চা। কবি নজরুল আজীবন যেকোনো অন্যায়, জুলুম এবং একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত মানবিক রাষ্ট্র গঠনে কবির সৃষ্টি ও দর্শন আমাদের চিরকাল পথ দেখাবে।”
ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী এক বছর ধরে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জেলা-উপজেলা পর্যায় এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে কবির জীবন ও কর্মের ওপর বিশেষ সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব ও গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে কবির সৃষ্টিকে আরও সহজপাঠ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলতে তথ্য-প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করার নির্দেশ দেন তিনি।
নজরুল জয়ন্তীর মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রিশালের বৈলর এলাকায় ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কৃষিকাজের সুবিধার্থে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই অঞ্চলের জলাশয়গুলো সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় নজরুল মিলনায়তনে ময়মনসিংহ জেলা উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির এক বিশেষ সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন। সেখানে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলের ভিত মজবুত করার আহ্বান জানান।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কবির নাতনি খিলখিল কাজী।
বক্তারা কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে একটি আন্তর্জাতিক মানের নজরুল গবেষণা কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক। আলোচনা সভা শেষে কবি নজরুলের গান, কবিতা ও নাটকের সমন্বয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। তিন দিনব্যাপী এই উৎসব আগামী ২৫ মে পর্যন্ত চলবে।