নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা: ৭ দিনের ছুটিতে দেশজুড়ে ঈদের আমেজ, টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড়
- পোষ্ট টাইম : 2026-03-17 17:41:22
- আপডেট টাইম :
- 11288 বার পঠিত
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটি আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। নাড়ির টানে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে লাখো মানুষ। রাজধানী ঢাকার প্রধান তিন প্রবেশপথ—সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আজ সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সব কষ্ট উপেক্ষা করেই মানুষ ছুটছে নিজ গন্তব্যে।
এ বছর ঈদের মূল ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল ১৯ মার্চ থেকে। তবে ১৭ মার্চ শবে কদরের সরকারি ছুটি এবং মাঝে ১৮ মার্চ (বুধবার) একদিন অফিস খোলা থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে মন্ত্রিসভা ওইদিনকেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। ফলে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিনের এক দীর্ঘ অবকাশ পেলেন সরকারি ও বেসরকারি চাকুরিজীবীরা। এর সঙ্গে ২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবসের ছুটি যোগ হয়ে অনেকের জন্য এই ছুটি আরও দীর্ঘ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আজ সকাল থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ছিল মানুষের ঢল। ট্রেনের আগাম টিকিট যারা সংগ্রহ করতে পেরেছেন, তাদের চোখে-মুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্টেশনে পৌঁছানো যাত্রীদের অনেককেই ট্রেনের অপেক্ষায় প্ল্যাটফর্মে বসে থাকতে দেখা গেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ থেকে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস পুরোদমে চালু হয়েছে। তিতাস, একতা ও আন্তঃনগর ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে যাত্রীর চাপ এতই বেশি যে, ট্রেনের ভেতরে যেমন ভিড়, তেমনি ছাদেও অনেককে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উঠতে দেখা গেছে।
দক্ষিণাঞ্চলগামী মানুষের প্রধান ভরসা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আজ দুপুরের পর থেকে ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরিশালগামী বড় বড় লঞ্চগুলো যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে ঘাট ছাড়ছে। লঞ্চ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘরমুখো মানুষের চাপ সামলাতে আজ থেকেই বিশেষ স্টিমার সার্ভিস চালু করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই রোধে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।
গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়ায় কিছু কিছু জায়গায় ধীরগতির খবর পাওয়া গেছে। তবে বিআরটিএ-এর নির্দেশনা অনুযায়ী আজ থেকে মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীবাহী বাসগুলো অনেকটা স্বস্তিতে চলতে পারছে। বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রীকে লোকাল বাসে বা পিকআপ ভ্যানে করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা গেছে।
ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। র্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য টার্মিনালগুলোতে মোতায়েন রয়েছে। পকেটমার ও মলম পার্টির খপ্পর থেকে যাত্রীদের রক্ষা করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রুখতে বিআরটিএ-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন টার্মিনালে অভিযান পরিচালনা করছে।
সাভারের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত আসমা বেগম বলেন, “সাত দিনের ছুটি পাওয়াতে খুব খুশি। বছরের এই একটা সময়েই বাবা-মায়ের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাই। ভিড় যত বেশিই হোক, বাড়ি ফেরার আনন্দ সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।”
সরকারের এই দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত এবং মহাসড়কে ভারি যান চলাচল বন্ধ রাখার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সবার প্রত্যাশা, কোনো বড় দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই যেন সাধারণ মানুষ তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে এবং পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে।
| ফজর | শুরু- ৫.১২ টা ভোর |
| যোহর | শুরু- ১২.১২ টা দুপুর |
| আছর | শুরু- ৩.৩০ টা বিকাল |
| মাগরিব | শুরু- ৫.৫৭ টা সন্ধ্যা |
| এশা | শুরু- ৭.১৩ মিনিট রাত |
| Jummah | - দুপুর |