|
বঙ্গাব্দ | শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

www.bdcrimewatch.com : একটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, অবানিজ্যিক, সমাজসেবা মূলক উদ্যোগ।
আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া অনিয়ম, অসঙ্গতি ও অপরাধের তথ্য দিতে যোগাযোগ করুন।

Big Adds 2

কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত: দুই মরদেহ হস্তান্তর

Reporter
রিপোর্টারের নামঃ MAMUNUR RAHMAN
  • পোষ্ট টাইম : 2026-05-10 00:08:18
  • 6070 বার পঠিত
কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত: দুই মরদেহ হস্তান্তর
ছবির ক্যাপশন: কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। ঘটনার দীর্ঘ সময় পর এবং দফায় দফায় পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ দুটি মরদেহ বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্র জানায়, শুক্রবার গভীর রাতে কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের পুটিয়া সীমান্ত এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম মো. হাসান (২৫), তিনি স্থানীয় একটি গ্রামের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানকালে বিএসএফ সদস্যরা কোনো প্রকার সতর্কতা সংকেত ছাড়াই সরাসরি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই হাসানের মৃত্যু হয়।

অন্য আরেকটি মরদেহের পরিচয় নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, তিনি অপর কোনো সীমান্ত পারাপারের ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন যা বিএসএফ একসঙ্গে হস্তান্তর করেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, তারা বিএসএফের গুলিতে আহত আরও একজনকে সীমান্তের ওপাড়ে নিয়ে যেতে দেখেছেন।

 

ঘটনার পর পরই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করে। শনিবার দুপুরে পুটিয়া সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি’র পক্ষ থেকে সীমান্তে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর কঠোর নিন্দা জানানো হয়।

বিজিবি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত হত্যা বন্ধে দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও কেন এই ঘটনা ঘটল, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চোরাচালান রোধে এবং আত্মরক্ষার্থে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল। তবে বিজিবি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, নিহতের কাছে কোনো অস্ত্র বা ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায়নি।

 

পতাকা বৈঠক শেষে বিকেলে কসবা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বিএসএফ মরদেহ দুটি হস্তান্তর করে। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে জানান, "বিএসএফ দুটি মরদেহ হস্তান্তর করেছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি। একটি মরদেহের পরিচয় পাওয়া গেছে এবং অন্যটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।"

 

কসবা ও আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের এমন আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে। বায়েক ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায়শই বিএসএফ সদস্যদের মারমুখী আচরণ এবং বিনা উসকানিতে গুলির শিকার হতে হয় তাদের। নিহতের পরিবারে এখন চলছে মাতম। হাসানের বৃদ্ধ মা আহাজারি করে বলেন, "আমার ছেলে কোনো অন্যায় করেনি, তাকে কেন পাখির মতো গুলি করে মারা হলো? আমি এর বিচার চাই।"

 

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসেই সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে 'সীমান্তে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র' (Non-lethal weapons) ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ খুব কমই দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্ত এখন অনেকটা অস্থির হয়ে উঠেছে।

 

বিজিবি’র পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের রাতে সীমান্তের কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এই হত্যার বিচার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাব।"

ঘটনাটি নিয়ে কসবা সীমান্তে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bdcrimewatch.com | Crime Watch | reliable news portal | অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ

কারিগরী সহযোগিতায়: DHAKA SUPPLIER